সাপের হাত থেকে রক্ষা পেতে কিছু করনীয় ও নির্দেশনা

0
143
সাপের হাত থেকে রক্ষা পেতে কিছু করনীয় ও নির্দেশনা
“বর্ষাকাল”
-প্রতিনিয়ত হচ্ছে বৃষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি সৃষ্টি হচ্ছে বন্যার হ্রাস পাচ্ছে স্থলচর প্রাণিদের আবাস্থল। তাই খাল-বিল, হাওড়-বাওড়, নদী-নালা, বন-জঙ্গলে বসবাসরত স্থলচর প্রাণিগুলো ক্রমাগত অগ্রসর হচ্ছে লোকালয়ের দিকে।আর এই কারনে এই সময় টাতে,,সাপের উৎপাত বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। হাওরে পানি উঠে যাওয়াই তাদের বাসস্থানের পরিধি কমে যায় তাই তারা বসতবাড়ির কাছে চলে আসে।তাই এসময় বিশেষ করে মানুষ দ্বারা সাপ ও সাপ দ্বারা মানুষের জীবন ঝুঁকির আশংকা থাকে বেশি। সাপে কামড়ের সিংহভাগ ঘটনাই ঘটে বর্ষাকালে।
সেই সাথে সাপ শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রানী আর শীতল রক্তের প্রানীরা গরম কালেই বেশী সরব থাকে।।
তাই আমরা এই সময়টাতে সাপের হাত থেকে রক্ষা পেতে আর সাপ মারা থেকে বিরত থাকতে কিছু করনীয় ও নির্দেশনা মেনে চলবো। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি সেই করনীয় ও নির্দেশনা গুলি::
এই সময়টাতে সব থেকে বেশি দরকারী হলো সাপ সম্পকে জানা। নির্বিষ,মৃদু বিষধর,বিষধর সাপ গুলোকে চেনা। বাংলাদেশ প্রায় ৯০-৯৪ প্রজাতির সাপ রয়েছে যার মধ্যে ৭৫% সাপই নির্বিষ, বাংলাদেশ প্রায় ২৬ প্রজাতির বিষধর সাপ রেকর্ড করা হয়েছে যার মধ্যে অনেকের সাথেই আপনার দেখা হবার সম্ভাবনা নেই।কেননা এর মধ্যে সামুদ্রিক সাপের প্রজাতি ১৪ টির মতো আর বাকি গুলো স্থলচর হলেও অধিকাংশরই কামড়ের রের্কড নাই।
আমাদের দেশে সাধারণত ৬-৭ প্রজাতির বিষধর সাপের দংশনের শিকার হবার সম্ভাবনা থাকে। এদের চিনে রাখতে পেরে এড়িয়ে চলতে পারলেই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ হবে।।
আবার অনেক সময় সাপ ড্রাই বাইট দেয় (কামড় দেয় কিন্তু বিষ পুশ করে না) প্রায় ২০% (( পরবর্তী পর্বে এই ৬-৭ প্রজাতির সাপ ও ড্রাইবাইট নিয়ে আলোচনা করা হবে))
সাপে কামড়ানোর ১০০ মিনিটের মধ্যে ১০০ মিলিলিটার এন্টিভেনম শরীরে প্রবেশ করালে রোগী বেঁচে যাবার সম্ভাবনা প্রায় ৯৮% ইনশাআল্লাহ্।।
  • যতটা সম্ভব নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করবেন , উত্তেজিত হলে রক্ত দ্রুত চলাচল করবে যার ফলে বিষ দ্রুত কাজ করবে। আবার বেশি উত্তেজিত হলে হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনা থেকে যায়,আপনি জেনে অবাক হবেন যে সাপে কামড়ের ৭৫% রোগি হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়।
  • কাছাকাছির মানুষজনকে ডাকবেন,মটর বাইক বা যে কোনো দ্রুতগামী যানবাহনে করে হসপিটালে পৌঁছাবেন।
  • হাতে ঘড়ি বা চুড়ি, বালা থাকলে খুলতে হবে,কারণ কামড়ের অঙ্গ মারাত্মক রকম ফুলে গেলে পরে খোলা যায় না।
  • ক্ষতস্থান যত সম্ভব স্থির রাখতে হবে, যত নাড়াচাড়া করবেন ততই বিষ ছড়াবে।
  • কোন শক্ত দড়ি বা কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধন দেবেন না, যদিও দেন হালকা করে মোটা কাপড় দিয়ে বাঁধবেন যাতে বাঁধনের মধ্যে দিয়ে ২ আঙ্গুল অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে। চিকন দড়ি দিয়ে বাঁধনের ফলে অঙ্গহানির মতো হিতে বিপরীত হতে পারে। না বাঁধলেও সমস্যা নেই।
  • ভুল করেও নিজের জীবনকে ভালবাসলে ওঝা বা বেধের কাছে যাবেন না।
  • কামড়ের জায়গায় কোনও কেমিক্যাল লাগাবেন না৷
  • কামড়ের স্থানে ঠান্ডা, গরম, বরফ জল দেবেন না৷
  • সিনেমার মতো ভুলেও কেটে চিরে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না৷ এতে করে বিষ বেশি ছড়াবে অপরদিকে যে ব্যক্তি চুষবে তার মুখে ঘা বা কাটা চিড়া থাকলে তারও সমস্যা হবে।
  • রোগী নিজে দৌড়ে বা সাইকেল চালিয়ে আসবেন না, মানুষ পরিশ্রম করলে রক্ত চলাচল বাড়ে যার ফলে বিষক্রিয়াও বাড়বে।
  • সাপ ধরে হাসপাতালে আনার দরকার নেই৷ডাক্তার উপসর্গ দেখেই বিষ চিনে যাবে, সাপ চিনতে হবে না।
সাপ এড়াবেন কি করে??
  • প্রথম এবং সবচেয়ে কার্যকরি উপায়,বাড়ির চারপাশ পরিচছন্ন রাখুন৷ ইট, খড়,লাকরির স্তুপ বেশিদিন রাখবেন না।
  • রাতে অবশ্যই বিছানা ঝেড়ে মশারি টাঙিয়ে তোষকের নিচে গুঁজে শোবেন৷ দরজা-জানলার নিচে ফাঁকা জায়গা কাপড় গুঁজে ভরাট করে রাখতে পারেন৷
  • অন্ধকারে হাঁটাচলা করবেন না৷ হাতে লাঠি নিয়ে রাস্তা ঠুকে চলুন৷ হাততালি বা শব্দ করে লাভ নেই, কারণ সাপের বহিকর্ণ নেই৷
  • জুতো পরার আগে সেটা ঝেড়ে নিন৷ মাটির বাড়িতে ইঁদুরের গর্ত থাকলে বন্ধ করে ফেলুন।