Category Archives: Poem

ক্ষমা

কবিতা : ক্ষমা

লেখক :  Orpi ta Oyshor jo

দোষ যদি কেউ করে
ক্ষমা যদি চায় তোমার কাছে
ক্ষমা করে দিয়ো তারে
কারো মর্যাদা কখনো নষ্ট করোনা
ভেঙ্গোনা কারো মন
কারো মনে  দিয়োনা কষ্ট
কারো সাথে  করোনা বিবাদ
এই দুনিয়ায় ।
করোনা কখনো সত্য গোপন
বিলাসিতাতে নয় জীবন যাপন
অবহেলা করোনা কখনো
বন্ধু ভেবেছো যারে
ভুল যদি করে সে
ক্ষমা করে দিয়ো তারে♥

বৃদ্ধাশ্রমের কষ্ট

কবিতা : বৃদ্ধাশ্রমের কষ্ট

কেমন আছিস বাবা , ?
ভালো আছিস তো ,মাকে আর মনে পড়ে না তাই না
মাকে ভুলে গেলি এভাবে রেখে গেলি মাকে বৃদ্ধাশ্রমে
জানিস বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে আমার আর ভালো লাগে না
বৃদ্ধাশ্রমের করিডোর আজ কাঁনায় কাঁনায় ভরপুর,
দুঃসহ যাতনা, ঘৃণা, চারদিকে শুধু কর্পূর।
আজ যে তুই হয়েছিস বড়, বাবা হয়ে গেছিস তাই না
তোর সন্তান নিশ্চয়ই তোকে বাবা বলে ডাকে
আমাকে তো ডাকিস না আর ‘মা’ বলে
বিলাসিতায় যে জড়সড় , খাচ্ছে তোকে কুঁড়ে কুঁড়ে
সেদিন যখন বললি তোর ঘরে আমি নাকি
বড্ড বেমানান,
আমার জন্য নাকি আজকাল তোর
কাঁদে না প্রাণ ।
আজ আমি কেমন আছি রাখিস না তার খবর ।
তোর ফ্ল্যাটের এককোণায় জায়গাটা হয়ে ওঠেনি আজো
আমি তোর কাছে অনেক বেশি বোঝা
এ কথা বলাটা তোর কাছে অনেক সোজা
যত্নে লালিত স্বপ্ন গুলো অযত্নে বিদায়ের শেষ ঠিকানা- এই বৃদ্ধাশ্রম ;
বৃদ্ধাশ্রমের করিডোরে আজ তীল ধারণের ঠাঁয় নাই,
আমার মত হাজার হাজার মা আজ সেখানে আশ্রয় চায়।
বৃদ্ধাশ্রমের একপাশেতে আমার জন্য জায়গা আছে যে রাখা,
শুনেছি ওখানেই আমার থাকার জায়গা নাকি পাকা!
এসব দেখতে দেখতে আমি বহুদিন নিজেকেই ভুলে যাচ্ছি
বিশ্বাস কর মনের ভেতর লুকানো একটা সুড়ঙ্গ দেখতে পাচ্ছি…
সে সুড়ঙ্গ দিয়ে ইচ্ছে করে পালিয়ে যাই
কেমন করে যে পালাই এটাই এখন ভাবছি।
তোর কথা আজ বড্ড মনে পরছে
আমার চোখ বেয়ে অশ্রু নামছে আবেগে অবিরত,
প্রতিটাক্ষণ থাকি অপেক্ষায় , যদি আসে আমার খোকা এই আশায়
একটিবার আয়রে কোলে সারাদিন মন শুধুই তোকে ডাকে ।
দূর হতে দেখে আমি ভাবছি এসেছে আমার খোকা,
আজও আমি রয়ে গেলাম কেমন যেন বোকা!!
চিঠিখানা দিয়েছিলাম সেই কবে পাঠাস নি তার জবাব,
কলমে কালি নেই নাকি কাগজের অভাব?
ঘন ঘন চিঠি লিখি, রাগ করিস কি তুই
নাকি যত্নে আমার লেখা চিঠিগুলো পুড়িয়ে করিস ছাই,
বাড়ছে বয়স, শরীরে নেই আর আগের মতো জোর-
বসে বসে ভাবছি কখন হবে সেই ভোর ,
কখন পাবো তোর দেখা ।
মনেও যেন তাগিদ পাই না আর,
মনটা কেমন যেন হয়ে গেছে ভার
সময় করে আসিস খোকা একটা দিন আমার কাছে
তোর কপালে একটা চুমু দিবো এঁকে , যত্নে রাখিস সেটা তুলে।
যত্ন নিস নিজের খোকা কাটুক দিন আরামে,
তোকে ছাড়া নেই ভালো এই বৃদ্ধাশ্রমে………!

কবিতা : হবে সেদিন জয়

কবিতা : হবে সেদিন জয়
লেখা : Orpita oyshorjo

আজ হারানোর কিছু নাই
তাই তো আজ ভয় নেই

যা ছিলো একে একে সব শেষ হয়ে গেলো ।
সবাই আজ অচেনা ভীষণ
চেনার আজ নেই কোন কারন

হারিয়ে যে গেছি আজ
সময়ের স্রোতে

আমি ছাড়া নেই কিছু
কেউ আর ডাকেনা পিঁছু
আমার আর নেই চাওয়া
সব যেন ভুলে যাওয়া
কেউ যদি চায় কিছু
চোখের জল দেই তারে
সবাই হয়তো আজ আমাকে পাগল ভাবে
তাতে আমার কি
হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে
বসে আছি আনমনে
ছিল যত অর্জন
আজ ক্ষয়ে গেছে সব
লোকে তবু বলে কপাল টা আমার নাকি পুরছে
ঐ লোকগুলোর মুখে,কালি মেখে দিয়ে
করবো অসাধ্যও সাধন
হয়তো হবে সেদিন আমার জয়।

কবিতা: চিরন্তনী নারী

কবিতা: চিরন্তনী নারী

লেখা : Orpita Oyshorjo
আমি নারী , আমি কবির কবিতার প্রতীক হতে পারি ।
আমি শঙ্খচিলের মতো ডানা মেলতে পারি ।
আমি লজ্জাবতী ,আমি রুপান্তরকারী,
আমি অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে যানি
আমি করিনা ভয় , কিংবা সংশয় ।
আমি চলার পথে হোঁচট খেলে
একলা একাই উঠে দারাতে পারি ।
আমি কান্নার পরে হাসিমুখে কথা বলতে পারি।
হাজারো কষ্ট পেরিয়ে আমি হিমালয় জয় করি।
আমি হেরে যাওয়া মানুষকে সাহস দিতে পারি ।
আমি কঠিন স্রোতে দিশাহারা হয়ে পরলে
হতাশাকে ছুঁড়ে ফেলে স্বপ্ন দেখতে পারি ।
আমি ভালোবাসতে পারি …
একটু ভালোবাসা পেলে আমার পাষাণ হৃদয় বরফগলা নদীর মত হয়ে যায়,,,
আকাশের মত বিশালতা মন আছে আমার,,
আমি একটু খানি ভরসা খুঁজি
পাশে থাকার একটা বিশ্বস্ত হাত পেলে আমি ভরসা পাই ।
মন খারাপের দিনে আমি
একলা বসে আপন মনে
বিষাদমাখা বিকেলটা পার করতে পারি ।
ছেঁড়া পাতার ধূলোবালি
আদর দিয়ে মুছে ফেলি ডাইরিটা আমি আগলে রাখতে যানি ।
যতোই অভাব ঘিরে থাকুক
অসুখ বিসুখ যেটাই আসুক
দু:খটাকে লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে সহ্য করতে পারি ।
আমি বাবার কন্যা, স্বামীর ভালোবাসা , সন্তানের জননী
আমি শাশ্বত, মায়াবী, চিরন্তনী।

কবিতা :  ডাক্তার  লেখা : Orpi Ta Oyshor Jo

কবিতা :  ডাক্তার

 

লেখা : Orpi Ta Oyshor Jo

 

করোনায় মারা গিয়েছে অনেকে –

কে রেখেছে তাদের মনে ?

 

ঢাল নেই, তলোয়ার নেই

পাঠিয়ে দিয়েছেন যুদ্ধে।

 

ডাক্তার রাই তো দিচ্ছে  সেবা,

ব্রত নিয়েছে  নিশ্চয়।

 

সবাইকে করবে সুস্থ

হবে না আর সময় নষ্ট।

 

ভয় নেই ভয় পেও না ভাই

ডাক্তার রা যদি পাশে না দ্বারায় কার কাছে নিবে ঠাই !

 

ডাক্তার রাই তো সৈনিক তারাই মূল যোদ্ধা

তারা যদি না থাকে সুস্থ হবেন কি করে ?

 

আপনার শেষ যুদ্ধে তারাও  করছে যুদ্ধ

আপনাদের  ভালো রাখবে এটাই তাদের মূল লক্ষ্য,

 

আপনাকে সেবা দিয়ে হয়নি তারা ক্লান্ত

আপনাদের জন্য তারা হয়ে আছে আজ শান্ত।

 

জীবন মরণের যুদ্ধের মূলযোদ্ধা ডাক্তার।

তাদের সুরক্ষা না  দিলে  শেষ রক্ষা হবেনা আর  ।

কবিতা : মেঘের রাজ্য  লেখা : Orpi Ta Oyshor Jo

কবিতা : মেঘের রাজ্য

লেখা : Orpi Ta Oyshor Jo

ওই যে দূর আকাশে,
মেঘেরা আজ যাচ্ছে ভেসে ।
মেঘ আকাশের  সাথে যাবো যেন মিশে,
মনে হয় মেঘের রাজ্য ঘেঁষে।।
মেঘ রাজ্য মেঘ বালিকাদের সাথে,
করবো খেলা  সারাবলা এখান হতে ওখানেতে।
বাঁধন হারা উন্মুক্ত আকাশের গায়ে নেচে নেচে,
উল্লাসেতে উঠবো সবাই মেতে।।
মেঘের রাজ্যে উড়বে মন,
দেখবে  মেঘেরা গা ঘেঁষে আছে কেমন।
আজ আকাশের বুকে ছড়িয়ে দিলেও ক্ষতি নেই!
মেঘ রাজ্যে প্রাণ ফিরে পাবে অনেকেই।।
মন্দ হবেনা যদি লুকিয়ে পড়া যায় মেঘের কোলে,
যেখানে একই আকাশে রবে মেঘের দোলে।
আরও না জানি কতো  স্বপ্ন দেখে আমার এ মন
মেঘের রাজ্যে ঘুরে বেড়াবো গা ঘেঁষে থাকবো সারাক্ষণ।।

কবিতা: কঠিন সত্য আজ বলছি লেখা: Orpi Ta Oyshor Jo

  কবিতা: কঠিন সত্য আজ বলছি .. …….

লেখা: Orpi Ta Oyshor Jo

দেখেছো কি একটু খাবারের জন্য
শিশুদের সেই কান্না।
দেখেছো কি কত ঘরে আজ বন্ধ হয়েছে রান্না।
দেখেছো কি যাকাতের আশায়
সবাই গেছে দূয়ারে দূয়ারে
পায়নি তারা যাকাত
কেঁদেছে মুখ লুকিয়ে
দেখেছো কি ক্ষিদের জ্বালায়
আগুন জ্বলে তাদের  বুকে – পিঠে
তবু তারা হায় আজ কত অসহায়।
দেখেছো কি একটু বাঁচার জন্য
আর একটু  ঘুমের জন্য
ফুটপাতে ঘুমায় কি করে
একটু খাবারের আসায়
রক্তে বুক ভাসায় ।
দেখেছো কি নতুন কাপড়ের আশায়
চেয়ে থাকে তোমাদের দিকে
তবু পায়না তোমাদের একটু সহানুভূতি
তখন তাদের ঈদ হয়ে যায় মাটি।
দেখেছো কি আজ টাকার অভাবে
দেখানো হয়নি ডাক্তার।
ডাক্তার টাও রাগ দেখিয়েছে
ওদের উপর বারবার
অভাগি মাও আজ পা ধরেছে
বলছে করুণ সুরে
বাঁচাও আমার অবুজ সন্তান টাকে
তোমরা সেদিন বাঁচাও নি তারে
অসহায় শিশু টা আজ মরে পরে আছে
তা দেখে অভাগি মাও আজ
বাকরুদ্ধ হয়ে আছে ।
দেখেছো কি পেট বাঁচাতে
ছুটছে ওরা তোমাদের দূয়ারে।
আজ অসহায় বলে
তোমরা অনেকে নাম দিয়েছে তাদের চোরে
আজ বলছি তোমাদের
তোমরা যারা তাদের পেটে মারবে লাথি
তোমাদেরো পাপ হবে তখন বুঝবে আমার এই কথাটা  ছিল কত খাঁটি ।

কবিতা: খুঁজে দেখো লেখা: Orpi Ta Oyshor Jo

কবিতা : “খুঁজে দেখো “

লেখা : Orpi Ta Oyshor Jo

যদি কখনো জোস্না রাতে
কখনো বা  ফুলের গন্ধে
একবার  নিঃশ্বাস নেও
তবে খুঁজে দেখো আমাকে
হয়তো খুঁজে পাবে
বর্ষার রাতে বৃষ্টির আনমনে
তোমার গায়ে যদি কয়েক ফোটা বিন্দু বিন্দু জল পড়ে
তবে খুঁজিও আমাকে
হয়তো খুঁজে পাবে
আকাশের ঝরো ঘূর্ণিঝড়ে
কিংবা রোদ্র-মেঘের বৃষ্টিতে যদি দু একটা   পাখি  চিৎকার করে ডাকে
তবে সেই ঝড়ের হাওয়ায়
আমাকে খুঁজিও
হয়তো খুঁজে পাবে
যদি মাঝরাতে জোস্নাস্নানে
ভুলগুলো যদি বুঝতে পারো
তবে ক্ষমা করেদিও
চোখ বন্ধ করে খুঁজে দেখিও আমাকে
হয়তো খুঁজে পাবে
যদি কখনো কাক ডাকা ভোরে
হঠাত্ করে আমাকে তোমার মনে পরে
খুঁজে দেখিও আমাকে
হয়তো খুঁজে পাবে

কবিতা ক্ষমা

কবিতা ক্ষমা

লেখক :  Orpi ta Oyshor jo

দোষ যদি কেউ করে
ক্ষমা যদি চায় তোমার কাছে
ক্ষমা করে দিয়ো তারে
কারো মর্যাদা কখনো নষ্ট করোনা
ভেঙ্গোনা কারো মন
কারো মনে  দিয়োনা কষ্ট
কারো সাথে  করোনা বিবাদ
এই দুনিয়ায় ।
করোনা কখনো সত্য গোপন
বিলাসিতাতে নয় জীবন যাপন
অবহেলা করোনা কখনো
বন্ধু ভেবেছো যারে
ভুল যদি করে সে
ক্ষমা করে দিয়ো তারে

নববর্ষ

নববর্ষ

                                              হোসেনুর রহমান (হোসেন )

কোথায় রাখিব আজ এ সুখের ভার,
কারে দিব আজ মোর অশ্রু উপহার!
এ অজানিত সুখ, এ দুঃখ অজানা,-
বাধাহীন এ উৎসবে মানে না যে মানা।
সকল সুখের রাশি পুষ্প হ’য়ে ফুটে,
সব দুঃখ আজ মোর গীত হ’য়ে উঠে!
বিচিত্র এ গীত লোক, পুষ্পের কানন!-
কি জানি কেমন করে কাঁপিছে এমন!-
কোথায় রাখিব বল অন্তরের ভার,
তোমার উৎসবে আজি, হে সিন্ধু আমার!
★শুভ নববর্ষ ১৪২৭★